logo
youtube logotwitter logofacebook logo

সোহেল ও তার স্ত্রীকে

রামিসা হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে পুলিশের চার্জশিট - image

রামিসা হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে পুলিশের চার্জশিট

24 মে 2026, বিকাল 4:48

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন।মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতারে সক্ষম হয় পুলিশ।এ ঘটনায় পরের দিন বুধবার ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা ওইদিনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় এই ঘাতক।জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

মে ২৪, ২০২৬
রামিসা হত্যার ঘটনায় সোহেল ও তার স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত - image

রামিসা হত্যার ঘটনায় সোহেল ও তার স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত

07 জুন 2026, বিকাল 12:46

রামিসা হত্যার ঘটনায় সোহেল ও তার স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালতআমি খণ্ডিত লাশের বাবা হতে চাইনি, আমি তো একজন গর্বিত পিতা হতে চেয়েছিলাম! কন্যা হারিয়ে বুকভাঙা কান্না আর সমাজ ব্যবস্থার প্রতি এক রাস ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই নিজের আকুতি প্রকাশ করেছিলেন নিহত রামিসার বাবা। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা নিষ্পাপ সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি কোনো বাবার পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। নিজের বুকের মাণিককে অমানুষিকভাবে হারিয়ে একজন পিতার এই অসহায় আর্তনাদ পুরো দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। অবশেষে আজ সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায় এলো আদালতের পক্ষ থেকে।রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন উভয়েরই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার ঐতিহাসিক চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এবং মাত্র ৪ কার্যদিবসের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার ট্রায়াল সম্পন্ন করে আজ এই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও দ্রুততম ঘটনা।মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্যে প্রমাণিত হয়, গত ১৯ মে প্রতিবেশী রিকশা মেকানিক সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার আলামত ধ্বংস করতে এবং লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে গুম করার চেষ্টায় স্বামীকে সরাসরি সহযোগিতা করেছিলেন। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, শিশুর ওপর এমন নির্মম ও বর্বরতা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয় এবং সমাজে অপরাধীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিতেই এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এবং নজিরবিহীন এক অধ্যায়। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে নিম্ন আদালতে বিভিন্ন সময়ে শতাধিক নারীর ফাঁসির আদেশ হলেও, উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় দণ্ড হ্রাস পাওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো দেশীয় নারী আসামির ফাঁসি বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এমনকি দেশের একমাত্র নারী কারাগার কাশিমপুরেও আজ অবধি কোনো ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করার প্রয়োজন পড়েনি। ফলে, আজ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া স্বপ্নার এই রায় যদি শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে বহাল থাকে এবং কার্যকর হয়, তবে তা হবে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি নারীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার প্রথম ও অবিস্মরণীয় ঘটনা।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ে কোনো স্পর্শকাতর হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় দেওয়ার ঘটনা অতীতে দেখা যায়নি। রামিসার বাবা শুরু থেকেই বলেছিলেন, এই বিচার দেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হয়ে থাকবে। আজ সেই সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘশ্বাসের মাঝেও কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, উচ্চ আদালতের আইনি লড়াইয়ে এই ঐতিহাসিক রায় কত দ্রুত চূড়ান্ত রূপ নেয়।এফ/এইচ

জুন ০৭, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo